THE HIMALAYAN TALK: PALASH BISWAS TALKS AGAINST CASTEIST HEGEMONY IN SOUTH ASIA

THE HIMALAYAN TALK: PALASH BISWAS TALKS AGAINST CASTEIST HEGEMONY IN SOUTH ASIA INDIA AGAINST ITS OWN INDIGENOUS PEOPLES

PalahBiswas On Unique Identity No1.mpg

Thursday, February 21, 2013

কপ্টার চুক্তির ফ্যাক্টশিটে ইতিমধ্যেই প্রণব মুখার্জির নাম জড়িয়ে দিয়ে প্রেসিডেন্সিয়াল ইম্যুনিটির রক্ষাকবচ ধারণ করে ফেলে মোক্ষম চালটি দিয়েছেন মনমোহন। রাজনীতিকে দুর্নীতিমুক্ত করার নামে করপোরেট ফান্ডিংকে বৈধ করেছেন প্রণব মুখার্জি। কালো টাকার খেলাকে অসংবৈধানিক ভাবে সাদা করেছেন তিনি। জনগণের আদেশকে, ম্যান্ডেটকে পার্লিয়ামেন্টারি ফ্লোর ম্যানেজমেন্টের জোরে একের পর এক আইন পাল্টে সংবিধানকে হত্যা করে সংখ্যালঘু সরকারের শাসনে একচেটিয়া করপোরেট রাজ কায়েম করেছেন তিনি। যারা করপোরেট চাঁদায় রাজনীতি করেন,তাঁদের কারো ক্ষমতা নেই প্রণব বাবুর বিপক্ষে কথা বলার। দিল্লীতে ও অন্যত্র রাজনীতি ও মীডিয়াতে সক্রিয় বন্ধুদের সঙ্গে আমার নিয়মিত কথা হচ্ছে.তাঁরা একমত রাষ্ট্রপতি সংবিধান উলঙ্ঘন করেছেন, এবং প্রতিরক্ষা কেলেন্কারির রহস্য ফাঁস করতে রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে মহাভিযোগ, ইমপিচমেন্ট না এনে কোনও তদন্ত সম্ভব নয়। একে করপোরেট রাজ, উপরন্তু পক্ষ বিপক্ষর রাজনীতি হিন্দুত্ব নির্ভর, ভারতের প্রধানতম ধর্মাধিকারি চন্ডী উপাসক বাঙ্গালি ব্রাহ্মমসন্তান প্রণব মুখার্জির বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব নিয়ে কথা বলার মত বুকের পাটা এই মুহুর্তে কারও

কপ্টার চুক্তির ফ্যাক্টশিটে ইতিমধ্যেই প্রণব মুখার্জির নাম জড়িয়ে দিয়ে প্রেসিডেন্সিয়াল ইম্যুনিটির রক্ষাকবচ ধারণ করে ফেলে মোক্ষম চালটি দিয়েছেন মনমোহন। রাজনীতিকে দুর্নীতিমুক্ত করার নামে করপোরেট ফান্ডিংকে বৈধ করেছেন প্রণব মুখার্জি। কালো টাকার খেলাকে অসংবৈধানিক ভাবে সাদা করেছেন তিনি। জনগণের আদেশকে, ম্যান্ডেটকে পার্লিয়ামেন্টারি ফ্লোর ম্যানেজমেন্টের জোরে একের পর এক আইন পাল্টে সংবিধানকে হত্যা করে সংখ্যালঘু সরকারের শাসনে একচেটিয়া করপোরেট রাজ কায়েম করেছেন তিনি। যারা করপোরেট চাঁদায় রাজনীতি করেন,তাঁদের কারো ক্ষমতা নেই প্রণব বাবুর বিপক্ষে কথা বলার। দিল্লীতে ও অন্যত্র রাজনীতি ও মীডিয়াতে সক্রিয় বন্ধুদের সঙ্গে আমার নিয়মিত কথা হচ্ছে.তাঁরা একমত রাষ্ট্রপতি সংবিধান উলঙ্ঘন করেছেন, এবং প্রতিরক্ষা কেলেন্কারির রহস্য ফাঁস করতে রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে মহাভিযোগ, ইমপিচমেন্ট না এনে কোনও তদন্ত সম্ভব নয়। একে করপোরেট রাজ, উপরন্তু পক্ষ বিপক্ষর রাজনীতি হিন্দুত্ব নির্ভর, ভারতের প্রধানতম ধর্মাধিকারি চন্ডী উপাসক বাঙ্গালি ব্রাহ্মমসন্তান প্রণব মুখার্জির বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব নিয়ে কথা বলার মত বুকের পাটা এই মুহুর্তে কারও নেই। পশ্চিম বঙ্গের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিরাও ব্রাহ্মণ্যতান্ত্রক কর্তৃত্ব বজায় রাখতে প্রণব বাবুর বিরুদ্ধে একটি কথাও বলবেন না। কপ্টার দুর্নীতি নিয়ে হই হাঙ্গামা নাকরলেই নয়, তাই নমো নমো করে পুজো সারছেন সব পক্ষই

 ভিভিআইপিদের জন্য হেলিকপ্টার কেনায় ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে ঘিরে দুর্নীতি বিতর্কে এবার নাম উঠলো দেশটির রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির। কারণ তিনি তখন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে সেই কপ্টার কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করেছিলেন।

পলাশ বিশ্বাস

ভিভিআইপিদের জন্য হেলিকপ্টার কেনায় ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে ঘিরে দুর্নীতি বিতর্কে এবার নাম উঠলো দেশটির রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির। কারণ তিনি তখন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে সেই কপ্টার কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করেছিলেন।

আজ থেকে শুরু হল সংসদের বাজেট অধিবেশন২৬ ফেব্রুয়ারি পেশ হবে রেল বাজেট এবং পরদিন প্রকাশিত হবে অর্থনৈতিক সমীক্ষা। ২৮ ফেব্রুয়ারি সাধারণ বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম।এবারের অধিবেশনে কপ্টার দুর্নীতি সমেত একাধিক ইস্যুতে বিরোধীদের কড়া প্রতিরোধের মুখে পড়তে হতে পারে সরকারকে। সেই জন্য, বুধবারের সর্বদল বৈঠকে শাসকদল কংগ্রেসের সুর ছিল অনেকটাই নরম। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, কপ্টার কেলেঙ্কারি নিয়ে তারা যে কোনও তদন্তে প্রস্তুত। অথচ কপ্টার চুক্তির ফ্যাক্টশিটে ইতিমধ্যেই প্রণব খার্জির নাম জড়িয়ে দিয়ে প্রেসিডেন্সিয়াল ইম্যুনিটির রক্ষাকবচ ধারণ করে ফেলে মোক্ষম চালটি দিয়েছেন মনমোহন

 রাজনীতিকে দুর্নীতিমুক্ত করার নামে করপোরেট ফান্ডিংকে বৈধ করেছেন প্রণব মুখার্জি। কালো টাকার খেলাকে অসংবৈধানিক ভাবে সাদা করেছেন তিনি। জনগণের আদেশকে, ম্যান্ডেটকে পার্লিয়ামেন্টারি ফ্লোর ম্যানেজমেন্টের জোরে একের পর এক আইন পাল্টে সংবিধানকে হত্যা করে সংখ্যালঘু সরকারের শাসনে একচেটিয়া করপোরেট রাজ কায়েম করেছেন তিনি। 

যারা করপোরেট চাঁদায় রাজনীতি করেন,তাঁদের কারো ক্ষমতা নেই প্রণব বাবুর বিপক্ষে কথা বলার। 

দিল্লীতে ও অন্যত্র রাজনীতি ও মীডিয়াতে সক্রিয় বন্ধুদের সঙ্গে আমার নিয়মিত কথা হচ্ছে.তাঁরা একমত রাষ্ট্রপতি সংবিধান উলঙ্ঘন করেছেন, এবং প্রতিরক্ষা কেলেন্কারির রহস্য ফাঁস করতে রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে মহাভিযোগ, ইমপিচমেন্ট না এনে কোনও তদন্ত সম্ভব নয়। 

ইতালির সঙ্গে ভারত যে পরিমাণ অর্থে কপ্টার চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল মাত্র এক বছর আগে অত্যধিক দামের জন্য সেই কপ্টার কিনতে রাজি হননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।শুধু তাই নয়,প্রযুক্তিগত মানের দিক থেকেও এডব্লিউ-ওয়ান জিরো ওয়ান কপ্টার খুব একটা উন্নত ছিল না বলে মত মার্কিন সেনার।যদিও তিন হাজার পাঁচশো ছিয়াল্লিশ কোটি টাকার ইতালির এরোস্পেস এন্ড ডিফেন্স ফার্ম ফিনমেকানিকার কাছ থেকে বারোটি কপ্টার কিনতে কসুর করেনি ভারত।যারমধ্যে আটটি কপ্টার রাষ্ট্রপতি,প্রধানমন্ত্রী সহ ভিভিআইপি পরিবহন শুরু করে দিয়েছে।বাকি চারটি কপ্টার ভারতীয় বায়ুসেনা ব্যবহার শুরু করেছে।সেই-সঙ্গে এই বরাতের ক্ষেত্রে উঠে এসেছে বড়সড় ঘুষ বিতর্ক।অভিযোগ এই বরাতের ক্ষেত্রে বেআইনিভাবে মোটা টাকার মুনাফা পকেটস্থ করেছেন কপ্টার সংস্থা ফিনমেকানিকার প্রধান গুসেপ্পে ওরসি তাকে গ্রেফতার করেছে ইতালি পুলিশ।

ভিভিআইপিদের জন্য হেলিকপ্টার কেনায় ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে ঘিরে দুর্নীতি বিতর্কে এবার নাম উঠলো দেশটির রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির৷ কারণ তিনি তখন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে সেই কপ্টার কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করেছিলেন৷
 
ইটালির প্রতিরক্ষা নির্মাণ কোম্পানি ফিনমেকানিকার কাছ থেকে ভিভিআইপিদের জন্য হেলিকপ্টার কেনা ঘিরে ভারত জুড়ে এখন মহা তোলপাড়৷ এর কেনাবেচার দুর্নীতি বিতর্কে রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের নাম ওঠায় কংগ্রেস-নেতৃত্বাধীন জোট সরকার পড়েছে নতুন বিড়ম্বনায়৷ তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে প্রণব মুখোপাধ্যায় ইতালির আগুস্তা ওয়েস্টল্যান্ড কপ্টার কেনার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুমোদন করেছিলেন৷ টেন্ডার পাস করে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় – এমনটাই বলা হয়েছে সরকারি তথ্যনথিতে৷
 
এই কেনা পাকা করতে ভারতীয় এজেন্টদের ৩৭০ কোটি টাকা ঘুষ দেয়া হয়েছিল, এই অভিযোগের তদন্ত করছে কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো সিবিআই৷ এটা এখন দেখার যে, সিবিআই তদন্তের স্বার্থে রাষ্ট্রপতিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে কিনা৷ যদিও তার সম্ভাবনা কম এই কারণে, যে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক প্রধান হিসেবে রাষ্ট্রপতির আছে বিশেষ রক্ষাকবচ৷
 
কপ্টার দুর্নীতি নিয়ে শুরু হয়েছে সরকার ও বিরোধীপক্ষের দোষারোপ ও পাল্টা দোষারোপ পালা৷
 
সরকারের তথ্যনথিতে বলা হয়েছে, ২০০৩ সালে বিজেপি-জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর প্রধানমন্ত্রীত্বকালেই কপ্টারের কারিগরি গুণমান চূড়ান্ত করা হয় এবং প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ব্রজেশ মিশ্রের নির্দেশমত পূর্বের স্পেসিফিকেশনে পরিবর্তন করা হয়৷
 
প্রতিরক্ষা সওদা নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ এই প্রথম নয়৷ ১৯৪৮-এ প্রতিরক্ষামন্ত্রী কৃষ্ণ মেননের আমলে ঘটেছিল জিপ কেলেঙ্কারি৷ তার তদন্ত রিপোর্ট দেয়া হলেও তা প্রকাশ করা হয়নি৷ ১৯৮৭ সালে বোফর্স কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়ে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর নাম৷ যৌথ সংসদীয় কমিটি রিপোর্ট দেয়৷ সিবিআই তদন্ত চলে দীর্ঘদিন৷ পরে মামলা খারিজ হয়ে যায় দিল্লি হাইকোর্টে৷ আটের দশকে জার্মানির এইচডিডাবল্যু সাবমেরিন বেচাকেনায় দুর্নীতির তদন্ত মাঝপথে ধামাচাপা পড়ে যায় ২০০২ সালে৷ ওই বছরেই কার্গিল যুদ্ধের শহিদদের মরদেহ বহনের জন্য কেনা কফিন কেলেঙ্কারিতে উঠে আসে বাজপেয়ী সরকারের তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জর্জ ফার্নান্ডেজের নাম৷ প্রতিরক্ষা সওদা কেলেঙ্কারির সব তদন্ত  শেষ অবধি লোকচক্ষুর আড়ালেই থেকে গেছে৷

বাজপেয়ী-জমানাকে নিশানা করছে কেন্দ্র

কপ্টার-চুক্তির যাবতীয় নথি-তথ্য প্রকাশ করে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, দুর্নীতি কিছু হয়ে থাকলে তা হয়েছে অটলবিহারী বাজপেয়ী সরকারের আমলেই। ... কপ্টার-দুর্নীতির শিকড় খুঁজতে আজ তদন্তে নেমেছে সিবিআই। ... অ্যান্টনির যুক্তি, যে কোনও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার সময় ভারত সরকার সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে একটি সততা-রক্ষার চুক্তি করে।

একে করপোরেট রাজ, উপরন্তু পক্ষ বিপক্ষর রাজনীতি হিন্দুত্ব নির্ভর, ভারতের প্রধানতম ধর্মাধিকারি চন্ডী উপাসক বাঙ্গালি ব্রাহ্মমসন্তান প্রণব মুখার্জির বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব নিয়ে কথা বলার মত বুকের পাটা এই মুহুর্তে কারও নেই। 

পশ্চিম বঙ্গের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিরাও ব্রাহ্মণ্যতান্ত্রক কর্তৃত্ব বজায় রাখতে প্রণব বাবুর বিরুদ্ধে একটি কথাও বলবেন না। কপ্টার দুর্নীতি নিয়ে হই হাঙ্গামা নাকরলেই নয়, তাই নমো নমো করে পুজো সারছেন সব পক্ষই

অন্যদিকে বাস্তব পরিস্থিতি এই যে বিরোধীদের দাবি মেনেই, তাঁর গৈরিক সন্ত্রাস মন্ত্রব্যের জন্য দুঃখপ্রকাশ করে নিয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীলকুমার শিন্দে। তাঁর মন্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। হিন্দুত্বের বিরুদ্ধে কথা বলে ভারত বর্ষে রাজনীতি অসম্ভব, আরও একবার বুঝিয়ে দিয়েছেন  কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

অধিবেশনে মূল্যবৃদ্ধি এবং সাধারণ ধর্মঘট নিয়ে সোচ্চার হবে বামেরাও। দেশজুড়ে দুদিনের সাধারণ ধর্মঘটের সমর্থনে আজ সংসদ ভবনের সামনে ধর্না দেয় বাম দলগুলি।  

মজার ব্যাপার হল যে এই ধর্মঘট আনুষ্ঠানিক ভাবে মুল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে হলেও প্রধান দাবি ছিল বেতন  ও ভাতা সন্ক্রান্ত সংস্কারের বিরোধিতা না করে, বায়োমেট্রিক ডিজিটাল নাগরিকতাকে মুখ্য হাতিয়ার করে সারা দেশে পুঁজিবাদী একচেটিয়া গণহত্যা সংস্কৃতি চালু করতে, ভারত আমেরিকা পরমাণু চুক্তি ও মার্কিন যুক্ত রাষ্ট্র ও ইজরাইলের নেতৃত্বে আণবিক সৈন্য জোট গড়ে ভারতকে বিশ্বের যুদ্ধব্যবসায়ীদের চারণভূমি বানানো পর্যন্ত প্রণববাবুর সঙ্গে যুগলবন্দিতে ইউপিএ সরকারকে সমর্থন করে বামপন্থিরা জনগণের সঙ্গে যে বিশ্বাস ঘাতকতা করেছেন, তা খন্ডাতে প্রণব বাবুর বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট আনতে হয় প্রগতিবাদী বামপন্তীদেরই

তাঁরা সেটা করার দঃসাহস করবেন না

তাহলে আবার কেন এই মিথ্যা প্রবন্চক ধর্মঘট উদ্যাপন?

 প্রতিদ্বন্দ্বী ক্ষমতাসীন অগ্নিকন্যারও এককালে বন্ধের দেবী নামে যথেষ্ট সুখ্যাতি ছিল, এখন তিনি বন্দ্ধ বিরোধী জেহাদে নেমেছেন

এতটাই আক্রামক সেই উপক্রম যে ওপার বাংলা যখন ভাষা শহীদের স্মৃতিতে একুশের চেতনায় সমস্ত প্রতিকূলতার মধ্যে বাঙ্গালি জাতি সত্তাকে পুনর্জীবতে করতে লাখো লাখ শহবাপ চত্বরে জমা হচ্চে, আকাশে শহীদের উদ্দেশে ভালো থেকে চিঠি উড়িয়ে দিচ্ছ. ঠিক তখনই ধর্ম ঘটের দিন কাজে না যাওযার অপরাধে এক আধিকারিকের কান কেটে নেওয়া হল এপার বাংলায়

মধ্যযুগীয় বর্বরতার সাক্ষী থাকল মুর্শিদাবাদের জলঙ্গির বেণীপুর গ্রাম পঞ্চায়েত অফিস। ধর্মঘটের দিন অফিসে হাজির না হওয়ায় ব্যাপক মারধর করে এক পঞ্চায়েত অফিসারের কান কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠল তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে। 

গতকাল অফিসে হাজির হননি পঞ্চায়েতের এক্সিকিউটিভ অ্যাসিসটেন্ট হজর ওমর। আজ সকালে যখন তিনি কাজে যোগ দেন, সে সময় তাঁর ওপর হামলা হয় বলে অভিযোগ। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিত্সাধীন ওই আধিকারিক। ঘটনার প্রতিবাদে বেণীপুরের পঞ্চায়েত কর্মীরা জলঙ্গির বিডিও অফিসে বিক্ষোভ দেখান। 

অন্যদিকে,গতকাল সাধারণ ধর্মঘটের দিন  স্কুল বন্ধ রাখায় আজও স্কুল খুলতে দেওয়া হল না। স্কুলের সামনে মঞ্চ বেধে প্রধানশিক্ষককে বসিয়ে রেখে চলল শারীরিক ও মানসিক নিগ্রহ। গোটা ঘটনাই ঘটে স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের সামনেই। আজ সকালে এই ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়া নেতাজি কলোনি উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে। অভিযোগের তির তৃণমূলের দিকে। বেশ কিছুক্ষণ মঞ্চে বসিয়ে রাখার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন প্রধানশিক্ষক মনিগোপাল বিশ্বাস। এরপর তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।   

একই ভাবে আজ স্কুল  দক্ষিণ ২৪ পরগনার মন্দির বাজারের ঝাঁপবেড়িয়া হাইস্কুল, হুগলির চণ্ডীতলার কলাছড়া হাইস্কুল, কালনার বিরুহা শরতচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়, হুগলির চণ্ডীতলার কলাছড়া স্কুলে একই কায়দায় শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ছাত্র-ছাত্রীদের  স্কুলে ঢুকতে বাধা দিলেন তৃণমূলের কর্মী সমর্থকরা। 


হেলিকপ্টার কেলেন্কারিতে নাম জড়িয়ে যাবার পরও নির্বিঘ্নে বাজেট অধিবেশনে উদ্বোধনী ভাষণে বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়।

 যার অর্থ হল করপোরেট রাজ আরও নির্মম ভাবে গণসংহার নীতিতে একচেটিয়া আধিপাত্যবাদের পতাকা উড়িয়ে অশ্বমেধ যজ্ঞ অব্যাহত রাখবে বহুসংখ্যক বহুজন মানুষ নিধন কল্পে

ইন্দিরার সমাজবাদকে জলান্জলি দিয়ে পুঁজিবাদের উচ্চ মার্গে উত্তরণে মুক্তবাজারের ভাগীরথ তিনি।তাঁর বক্তব্যের সঠিক তাত্পর্য্য না বুঝলে কপালে অনেক ভোগান্তি আছে

করপোরেট জগতের অতি প্রিয় এই প্রথম রাষ্ট্রপতি যার নাম সরাসরি প্রতিরক্ষা কেলেন্কারিতে জড়াল।তিনি ওবিসি নন।এসসি নন।এসটিও নন

আশিস নন্দীর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে হাতে গরম এমন নজির নিয়ে বাংলায় বিতর্ক হবে, তেমন আশা করা যায় না

ইউপিতে সরকারের চার্জশিটে পরিস্কার লেখা আছে যে প্রণব মুখার্জি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী থাকাকালীন 2005 সালে এই চুক্তি চুড়ান্ত করেন

সংবিধান অনুযায়ী তিনি দেশের জনগণের আদালতে অভিযুক্ত

ভিআইপি অথবা ভিভিআইপি শ্রণী ভারতীয় সংবিধানের সাম্য ও মৌলিক অধিকারের বিরুদ্ধে

তিনি অসৈনিক কাজে লাগানোর জন্য অসংবৈধানিক ভিভিআইপি শ্রেণীর জন্য প্রতিরক্ষা খাতে এই চুক্তি চুড়ান্ত করেন

তিনি ভারতীয় স্থল সেনা, নৌ সেনা ও বায়ু সেনার সুপ্রিম কমান্ডার

কিন্তু সরকারি অভিযোগের পর প্রেসিডেন্সিয়াল ইম্ম্যুনিটির অজুহাতে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও আদালতে মোকদ্দমা হবে না।তাঁর বিরুদ্ধে কোনও তদন্তও নিষিদ্ধ, যতক্ষন তিনি রাষ্ট্রপতি থাকবেন

বাংলা মীডিয়া এই খবরটি পুরোপুরি এড়িয়ে গেছে, অথচ ওপার বাংলার বাংলা কাগজে ফলাও করে ছাপা হয়েছে। এই কেলেন্কারিতে ফার্স্ট ফেমিলির বিরুদ্ধে সরাসরি ঘুস নেোয়ার অভিযোগ, তা নিয়ে রাজধানীর রাজনীতি সরগরম।এ নিয়ে এই বঙ্গের বামপন্থীরাো নিশ্চয়ই খামোশ থাকবেন না

বাজেট অধিবেশনে উদ্বোধনী ভাষণে বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়। 

সংসদের দুই কক্ষের সদস্যদের প্রতি তাঁর ভাষণে তিনি বলেন, "এখনও মন্দায় ইউরোপ। এই অবস্থায় শ্লথ হচ্ছে অর্থিনীতির বৃদ্ধির হার।" এই পরিস্থিতিতে আর্থিক বৃদ্ধির বাধাগুলি কাটানোর জন্য আলোচনা করা উচিত। 

রাষ্ট্রপতি বলেন, "আর্থিক বৃদ্ধির হার বাড়ানোর চেষ্টা করছে সরকার। এই পরিস্থিতি সকলের জন্যই উদ্বেগের। মুদ্রাস্ফীতি হ্রাস পেলেও এখনও উদ্বেগ কাটেনি।"

বিনিয়োগকারীদের উৎসাহ দিতে তাঁর সরকার সচেষ্ট বলে জানান তিনি। 

বাজেট অধবেশন সুষ্ঠু হওয়ার আশাবাদী প্রণব মুখোপাধ্যায় বলেন, "আমি আশা করি এই অধিবেশন ফলপ্রসু হবে।" 


সংস্কার চলবে, বাজেট অধিবেশনের শুরুতেই 'বার্তা' রাষ্ট্রপতির


সংস্কার চলবে, বাজেট অধিবেশনের শুরুতেই 'বার্তা' রাষ্ট্রপতির
সংসদে রাষ্ট্রপতি, উপ-রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং লোকসভার স্পিকার। ছবি-- পিটিআই
নয়াদিল্লি: প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী। তাই বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনের ভাষণে ঠিক কোন পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে ২০১৩-১৪ সালের বাজেট প্রস্তুত করতে হচ্ছে, সে মুখবন্ধটা তৈরি করে দিতে বিন্দুমাত্র অসুবিধে হল না। বৃহস্পতিবার শুরু হল সংসদের বাজেট অধিবেশন। আর এদিন যৌথ সভায় রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় যা বললেন তার নির্যাস, যে সংকটের মধ্যে দিয়ে দেশের অর্থনীতি যাচ্ছে, তার মোকাবিলায় প্রয়োজন সংস্কারের। ঘটনা হল, 'সংস্কার' শব্দটি তিনি একবারের জন্যও উচ্চারণ করেননি। কিন্তু জিডিপি থেকে শুরু করে মুদ্রাস্ফীতির প্রসঙ্গ তুলে বুঝিয়েছেন, হাল ফেরাতে সময়োচিত পদক্ষেপই করছে সরকার। 

আর্থিক বিকাশের বেহাল দশা নিয়ে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি বলেছেন দ্বিমুখী সমস্যার কথা। যার একদিকে রয়েছে ঘরোয়া ফ্যাক্টর আর অন্য পিঠে আন্তর্জাতিক ওঠাপড়া। এই সাঁড়াশি আক্রমণেই যে নাভিশ্বাস উঠছে, সে কথা স্পষ্ট করে দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। কেন্দ্রের সংস্কারমুখী প্রকল্পগুলির সমর্থন করে রাষ্ট্রপতি বলেছেন, 'আমাদের সরকার এই অবস্থায় যা যা করা প্রয়োজন, তা-ই করছে। বিনিয়োগ এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সচেষ্ট সরকার।' 

২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচন। উল্টো দিকে আবার ২০১২-১৩ অর্থবর্ষে আর্থিক বিকাশের হার দশকের রেকর্ড ভেঙে ৫ শতাংশে নেমে যাওয়ার ভ্রূকূটি। আগের অর্থবর্ষে যা ছিল ৬.২ শতাংশ, এবার সেটাই কমে যেতে পারে ৫ শতাংশে। এমন একটা জটিল পরিস্থিতিতেই বাজেটের হিসেবনিকেশ করতে হবে অর্থমন্ত্রী পালানিয়াপ্পন চিদাম্বরমকে। কতকটা তাঁর ঢাল হয়েই প্রণব মুখোপাধ্যায় বলেছেন, 'ভারতীয় অর্থনীতির বিকাশের হার ধাক্কা খেয়েছে। চলতি আর্থিক বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে জিডিপি বৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ৫.৪ শতাংশ। অথচ, গত দশকেই আমরা গড়ে এই হার ৮ শতাংশ দেখেছি।' 

সমান্তরাল ভাবে বেড়েছে মুদ্রাস্ফীতি। চড়া মূল্যবৃদ্ধির বাজারে দেশবাসীর হাঁসফাঁস অবস্থা অনিবার্য ভাবেই ভোটে বিরোধীদের হাতিয়ার হবে। হাতে সময় বলতে একটিমাত্র অর্থবর্ষ। তাতে পরিস্থিতি ঘুরিয়ে দেওয়া সম্ভব, এ কথা জোর দিয়ে বলতে পারেননি রাষ্ট্রপতি। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বলা সম্ভবও নয়। রাষ্ট্রপতি বলেছেন, 'মুদ্রাস্ফীতির ফাঁস ধীরে ধীরে আলগা হচ্ছে...যদিও এটি এখনও একটি বড় সমস্যা।' 

এনেছেন বিদেশনীতির প্রসঙ্গও। নিয়ন্ত্রণরেখায় দুই ভারতীয় জওয়ানের হত্যার ঘটনা টেনে তিনি বলেছেন, পারস্পরিক আস্থা কমে, এমন কোনও কাজ পাকিস্তানের করা উচিত নয়। তাঁর কথায়, 'শান্তিপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যেতে ভারত আগ্রহী। কিন্তু সেই সঙ্গে পাকিস্তানকেও দায়বদ্ধ থাকতে হবে।' চিনে নতুন নেতৃত্বর সঙ্গে ভারত একযোগে কাজ করতে চায়, সে কথাও জানিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে রাষ্ট্রপতি এদিন ঘোষণা করেছেন, ভারতের মঙ্গলাভিযান শুরু হবে এ বছরই।

তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে রাষ্ট্রপতি মহিলা সুরক্ষার উপর জোর দেন। তিনি বলেন, "দেশে মহিলা ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন দেশের সাধারণ মানুষ। সরকার সেই কারণেই অর্ডিন্যান্স আনছে।" গত বছরের শেষে দিল্লি ধর্ষণ কাণ্ডের প্রতিবাদে দেশে নারী সুক্ষার দাবি উঠেছিল তার পর প্রথম অধিবেশনে বসতে চলেছে সংসদ। 

অন্যদিকে সংসদের বাজেট অধিবেশনে বিরোধীদের সহযোগিতা পেতে সর্বদল বৈঠকের ডাক দিয়েছেন সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কমলনাথ। এবারের অধিবেশনে অনেকগুলি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনা হওয়ার কথা। যার মধ্যে একদিকে যেমন রয়েছে আর্থিক সংস্কারের বিলগুলি, তেমনই জমি অধিগ্রহণের মতো বিলও রয়েছে। এই বিলগুলি পাস করাতেই বিরোধীদের সহযোগিতা প্রয়োজন সরকারের। 

এ দিকে, বিভিন্ন ইস্যুতে সংসদে সরকারকে কোণঠাসা করতে প্রস্তুত বিরোধীরাও। তারমধ্যে কপ্টার কেনাবেচা দুর্নীতি থেকে শুরু করে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলি রয়েছে। বিরোধীদের বিক্ষোভে সংসদে সময় যাতে নষ্ট না হয় তার জন্য সচেষ্ট সরকার। প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং আশাপ্রকাশ করেছেন এবারের বাজেট অধিবেশন সবদিক দিয়েই ফলপ্রসূ হবে।


 চপার চুক্তি কেলেঙ্কারির তদন্তে পাওয়া তথ্য ভারতকে দিতে অস্বীকার করল ইতালি। গুরুতর এই বিষয়টি নিয়ে পাওয়া যাবতীয় তথ্য সম্পূর্ণ গোপনীয়তার মধ্যে রাখা হচ্ছে। তাই নয়াদিল্লি তথ্য সরবরাহের অনুরোধ জানালেও তা প্রত্যাখান করেছে ইতালির আদালত। তদন্তের স্বার্থেই নয়াদিল্লির অনুরোধ ফিরিয়ে দিল ইতালীয় আদালত। প্রাথমিক তদন্তের দায়িত্বে থাকা বিচারপতি জানিয়েছেন, গোটা বিষয়টি নিয়ে গোপনীয়তা বজায় রাখতে অন্য কারো সঙ্গেই তদন্ত থেকে পাওয়া তথ্য এখনই ভাগ করে নেয়া সম্ভব নয়। তাই ভারতের করা অনুরোধের সদর্থক জবাব দেয়া গেল না বলে জানানো হয়েছে। তবে তদন্ত কিছুটা এগোলে আর এত গোপনীয়তার প্রয়োজন থাকবে না। তখন ভারত নতুন করে তথ্যের জন্য আবদেন করলে তা বিবেচনা করে দেখা যেতে পারে। 
এদিকে ভিভিআইপিদের জন্য হেলিকপ্টার কেনায় ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে ঘিরে দুর্নীতি বিতর্কে এবার নাম উঠলো দেশটির প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখার্জির। কারণ তিনি তখন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে সেই কপ্টার কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করেছিলেন। ইতালির প্রতিরক্ষা নির্মাণ কোম্পানি ফিনমেকানিকার কাছ থেকে ভিভিআইপিদের জন্য হেলিকপ্টার কেনা ঘিরে ভারত জুড়ে এখন মহা তোলপাড়। এর কেনাবেচার দুর্নীতি বিতর্কে প্রেসিডেন্টের নাম ওঠায় কংগ্রেস-নেতৃত্বাধীন জোট সরকার পড়েছে নতুন বিড়ম্বনায়। ইন্টারনেট ও ওয়েবসাইট। 
তবে যথাযথ আইন মেনেই ভিভিআইপি চপার চুক্তি হয়েছে বলে দাবি করলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমন খুরশিদ। ইউপিএর স্বচ্ছতার দাবি তুলে খুরশিদ শনিবার বলেন, আমার মনে হয় বিষয়টি নিয়ে অযথা রাজনীতি করার প্রয়োজন নেই। এটা জাতীয় বিষয়। সরকার সমস্ত পদ্ধতি মেনেই এই চুক্তি করেছে। দু'দিনের বাংলাদেশ সফরে এ দিন ঢাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথার সময় কেন্দ্রীয়মন্ত্রী এ কথা বলেন। অগস্টাওয়েস্টল্যান্ডের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হবে কিনা সে বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি জানান, সরকার ইতোমধ্যেই নোটিশ জারি করেছে। তবে বেশকিছু পদ্ধতি মেনেই যেসব ব্যবস্থা নেয়া হবে তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন খুরশিদ। এই দুর্নীতিতে নাম জড়িয়েছে প্রেসিডেন্টও। সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমার মনে হয় না তাদের অভিযোগের ভিত্তি আছে। এই ধরনের বিতর্কে প্রেসিডেন্টের মতো সম্মানীয় ব্যক্তির নাম জড়ানো উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন খুরশিদ। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের আসন্ন ভারত সফরে এর প্রভাব পড়বে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন করা হয় খুরশিদকে। তিনি জানান, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচিতে এই বিষয়টি না থাকলেও আলোচনায় বিষয়টি উঠে আসতে পারে বলে জানিয়ছেন কেন্দ্রীয়মন্ত্রী। তবে খুরশিদ আড়াল করার চেষ্টা করলেও চপার বিতর্কে দ্বিতীয় ইউপিএ সরকার যে বেশ চাপে তা স্পষ্ট বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। 
তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে প্রণব মুখার্জি ইতালির আগুস্তা ওয়েস্টল্যান্ড কপ্টার কেনার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুমোদন করেছিলেন। টেন্ডার পাস করে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এমনটাই বলা হয়েছে সরকারি নথিতে। এই কেনা পাকা করতে ভারতীয় এজেন্টদের ৩৭০ কোটি টাকা ঘুষ দেয়া হয়েছিল, এই অভিযোগের তদন্ত করছে কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো সিবিআই। এটা এখন দেখার যে, সিবিআই তদন্তের স্বার্থে প্রেসিডেন্টকে জিজ্ঞাসাবাদ করে কিনা। যদিও তার সম্ভাবনা কম এই কারণে, যে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক প্রধান হিসেবে প্রেসিডেন্টের আছে বিশেষ রক্ষাকবচ। কপ্টার দুর্নীতি নিয়ে শুরু হয়েছে সরকার ও বিরোধীপক্ষের দোষারোপ ও পাল্টা দোষারোপ পালা। সরকারের তথ্যনথিতে বলা হয়েছে, ২০০৩ সালে বিজেপি-জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর প্রধানমন্ত্রীত্বকালেই কপ্টারের কারিগরি গুণমান চূড়ান্ত করা হয় এবং প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ব্রজেশ মিশ্রের নির্দেশ মতো পূর্বের স্পেসিফিকেশনে পরিবর্তন করা হয়।


রাষ্ট্রপতির ভাষণে পশ্চিমবঙ্গ প্রসঙ্গ, নতুন কিছু পায়নি তৃণমূল
বৃহস্পতিবার সংসদে রাষ্ট্রপতি। -- পিটিআই
নয়াদিল্লি: প্রথম বাঙালি রাষ্ট্রপতি। বাজেট অধিবেশনের শুরুতে সংসদে যৌথ সভায় প্রথম ভাষণ। উঠে এল পশ্চিমবঙ্গ। একবার নয়, একাধিকবার, একাধিক প্রসঙ্গে। 
বৃহস্পতিবার পরিকাঠামো নিয়ে বলতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি জানালেন, কেন্দ্রীয় সরকার নতুন দুটি বন্দর তৈরি করবে৷ একটি পশ্চিমবঙ্গের সাগরদ্বীপে এবং অন্যটি অন্ধ্রপ্রদেশে৷ দার্জিলিঙকে তিন বছর ধরে ২০০ কোটি টাকা সাহায্য দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি৷ বাংলাদেশের সঙ্গে ছিটমহল বিনিময়ের কথাও এসেছে তাঁর ভাষণে৷ প্রণববাবু জানিয়েছেন, দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে ও বাংলাদেশের সঙ্গে সুষ্ঠু সীমান্ত ব্যবস্থাপনার জন্য সংবিধান সংশোধন বিল আনবে সরকার৷ এ ছাড়া বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ার কাজ শেষ করা ও নতুন চেক পোস্ট চালু করার কথাও বলেছেন তিনি৷ 

প্রণববাবু সংবিধান সংশোধন বিল আনার কথা বললেও এ নিয়ে এখনও একটা জটিলতা রয়েছে৷ বিজেপি এই বিলের বর্তমান রূপে সন্তুষ্ট নয়৷ প্রধান বিরোধী দলের মতে, এই বিলে বাংলাদেশের সুবিধা বেশি হচ্ছে ও ভারত তুলনায় বেশি জমি হারাচ্ছে৷ দলের মুখপাত্র রবিশঙ্কর প্রসাদ জানিয়েছেন, 'আমরা অসম, পশ্চিমবঙ্গ এবং দেশের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব৷' এর আগে বিরোধী নেত্রী সুষমা স্বরাজ জানিয়েছিলেন, তাঁরা এখনও এই বিলে সম্মতি দেননি৷ এটা সংবিধান সংশোধন বিল বলে দুই তৃতীয়াংশ ভোটে তা পাস করাতে হবে৷ তাই বিজেপি-র সমর্থনও এখানে জরুরি৷ কংগ্রেসের বক্তব্য, এই বিল পেশের আগে বিজেপি-র সঙ্গে কথা বলে নেবে সরকার৷ 

রাষ্ট্রপতির ভাষণে দার্জিলিঙে কথা আলাদাভাবে এসেছে৷ প্রণববাবু বলেছেন, ত্রিপাক্ষিক চুক্তির অঙ্গ হিসাবে দার্জিলিঙকে কেন্দ্রীয় সরকার তিন বছর ২০০ কোটি টাকা দেবে৷ এই টাকা দিয়ে সামাজিক ও আর্থিক পরিকাঠামো তৈরি করা হবে দার্জিলিঙে৷ পশ্চিমবঙ্গকে পরিকল্পনা খাতে যে অর্থ দেওয়া হচ্ছে, দার্জিলিঙের টাকা তার অতিরিক্ত৷ সম্প্রতি গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার নেতারা যখন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিবের সঙ্গে দেখা করেছিলেন, তখন তিনি তাঁদের জানিয়েছিলেন, এই বছর এখনও পর্যন্ত ৬৪ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে৷ গোর্খা নেতারা বাকি টাকা দ্রুত দেওয়ার অনুরোধ করলে স্বরাষ্ট্রসচিব তাঁদের বলেছিলেন, বাকি টাকা যাতে দ্রুত জিটিএ পায় তিনি তার জন্য চেষ্টা করবেন৷ 

এছাড়া রাষ্ট্রপতির ভাষণে উঠে এসেছে, রবীন্দ্রনাথের নামে চালু হওয়া 'সাংস্কতিক সদ্ভাবনার জন্য টেগোর' আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রসঙ্গও৷ তিনি জনিয়েছেন, এ বছর এই পুরস্কার পাবেন প্রয়াত শিল্পী রবিশঙ্কর৷ প্রণববাবু বলেছেন, '২০১২ সালে গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, মদনমোহন মালবীয় ও মোতিলাল নেহরুর জন্মের দেড়শোবছর পূর্তি অনুষ্ঠান হয়েছে৷ এ বছর স্বামী বিবেকানন্দর ১৫০ তম জন্মবার্ষিকী ও গদর আন্দোলনের শতবর্ষ পালন করা হচ্ছে৷' তা ছাড়া কলকাতা বিমানবন্দরের আধুনিকীকরণ ও কলকাতায় ওষুধ নিয়ে শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের উল্লেখও রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণে করেছেন৷ 

পশ্চিমবঙ্গের এই উল্লেখ সত্ত্বেও তৃণমূল নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় রাষ্ট্রপতির ভাষণের মধ্যে নতুন ও উল্লেখযোগ্য কিছু পাননি৷ তবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দীপা দাশমুন্সি রাষ্ট্রপতির ভাষণে পশ্চিমবঙ্গের এই উল্লেখে খুবই খুশি৷ 

নয়াদিল্লি: আর্থিক বিকাশের ক্ষেত্রে শ্লথগতি, কর্ম ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা এবং নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিয়ে উদ্বিগ্ন সরকার। সংসদের যৌথ অধিবেশনে তাঁর প্রথম বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় বর্তমান সামাজিক ও আর্থিক বৈষম্যের উল্লেখ করে বলেছেন, এক নতুন ভারতের অভ্যূদয় ঘটেছে। যে ভারত চায় আরও বেশি সুযোগ, উন্নত পরিকাঠামো এবং যথার্থ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নতুন এই ভারতের চালিকা শক্তি হিসেবে যুব সম্প্রদায়ের মনোভাবের প্রশংসা করেছেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেছেন, এই তরুণরা আমাদের জাতীয় সম্পদ। তাঁরা আত্মবিশ্বাসী এবং সাহসী। তাঁদের আবেগ, উত্সাহ ও উদ্যোগ দেশকে এক নতুন উত্তরণের পথে নিয়ে যাবে বলেও প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
এই ধরনের আকাঙ্খার মধ্যেই আর্থিক ক্ষেত্রে অধোগতি, কর্মের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনার মতো সমস্যাগুলির সঙ্গে সরকারকে যুঝতে হচ্ছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেছেন, মানুষ এখন নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিয়ে উদ্বিগ্ন। দেশে নারী নিগ্রহের ঘটনায় উদ্বিগ্ন সরকার এধরনের অপরাধ মোকাবিলায় কড়া অর্ডিন্যান্স এনেছে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি৷
রাষ্ট্রপতি বলেছেন, বিচারপতি জে এস ভার্মা কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনার পর কেন্দ্র মহিলাদের বিরুদ্ধে নৃশংশ অত্যাচার চালানোয় দোষীদের কঠোর শাস্তি প্রদানের জন্য ফৌজদারি আইনের সংশোধন করে কঠোর অর্ডিন্যান্স জারি করেছে।উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরে রাজধানীতে এক ছাত্রীকে ধর্ষণ ও পরে তার মৃত্য নিয়ে উত্তাল হয়েছিল দেশ। এরই পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপতির এদিনের বক্তব্য খুবই তাত্পর্যপূর্ণ।
রাষ্ট্রপতি নারীদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারের একাধিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহনের প্রসঙ্গটিও উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, হিংসার শিকার মহিলাদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সাহায্য দেওয়ার জন্য দ্য ন্যাশনাল মিশন ফর এমপাওয়ারমেন্ট অফ উইমেন পরীক্ষামূলকভাবে দেশের ১০০ টি হাসপাতালে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার প্রকল্প গড়ে তুলবে। নারী ও শিশুদের নিরাপত্তার জন্য সরকারের ইতিমধ্যেই কঠোর আইন প্রবর্তন করেছে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের যৌন হয়রানি ঠেকাতে গতবছর লোকসভায় একটি আইন পাশ হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।


হেলিকপ্টার দুর্নীতি নিয়ে ওঠা পদত্যাগের দাবি খারিজ করলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী এ কে অ্যান্টনি। সেইসঙ্গে তিনি এও স্পষ্ট করে দেন, এ বিষয়ে সরকারের লুকোনোর কিছুই নেই। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে এমনটা জানিয়েছেন অ্যান্টনি। 

চপার দুর্নীতি নিয়ে সমস্ত স্তরে তদন্ত চলছে বলে দাবি রেখেছে ভারত। ইতালির আদালতে চলা তদন্ত থেকে তথ্য পেতে সবরকম ব্যবস্থাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সলমন খুরশিদ। বিদেশমন্ত্রী এও জানান, দিল্লির এক সিবিআই দলকে ইতিমধ্যেই ইতালির মিলানে পাঠানো হয়েছে। চপার দুর্নীতির অগ্রগতির ওপর নজর রাখতেই তাঁদের ইতালিতে পাঠানো হয়েছে। খুরশিদ বলেন, "দু`দেশের আদালতের মধ্যে তথ্য আদানপ্রদানের মধ্যে দিয়েই তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।" 

ইতালি ভারতকে এই চুক্তি প্রসঙ্গে কোনও তথ্য দিতে নারাজ হওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করায় খুরশিদ এ কথা জানান। ভারত যে কোনও ভাবেই চুক্তির তথ্য ইতালির সরকারের থেকে পাবে না সে কথা স্পষ্ট করে দিয়েছেন বিদেশমন্ত্রী। তিনি বলেন, "ইতালির থেকে চুক্তির তথ্য আমরা পাব না। সে দেশের সরকারের তদন্তের নিরিখে আমরা প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছি।" কিন্তু সে দেশের সরকার তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে ভারতকে কতটা সাহায্য করবে, সে বিষয়টি তাদের ওপরই বরতায় বলে দাবি খুরশিদের। 

অন্যদিকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বিরুদ্ধে ওঠা নতুন দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে এই প্রথম মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। ভিভিআইপিদের ব্যবহারের জন্য কেনা হেলিকপ্টার চুক্তি নিয়ে লুকোনোর কিছুই নেই। বিরোধীদের আক্রমণের পাল্টা হিসেবে সোমবার এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, "হেলিকপ্টার চুক্তি নিয়ে সরকারের কিছুই লুকোনোর নেই। সরকার সব বিষয়েই আলোচনার জন্য প্রস্তুত।" কপ্টার প্রস্তুতকারী সংস্থা অগস্তা ওয়েস্টল্যান্ডের ধারক সংস্থা ফিনমেকানিকার সিইও, ধৃত গিওসিসপে ওরসি দাবি করেছেন, প্রাক্তন বায়ুসেনা প্রধান এস পি ত্যাগীর পরিবারের কাউকে তিনি চিনতেন না। দুর্নীতির তদন্তে সরকারের বিরুদ্ধে অস্বচ্ছতার অভিযোগ করেছে বিজেপি। বিষয়টি নিয়ে সংসদ অচল করারও কথা ভাবছে ভরতীয় জনতা দল নেতৃত্ব। 


প্যান্ডোরার বাক্স খুলতেই মিলল কপ্টার ঘুষের সূত্র

সংবাদসংস্থা 
নয়াদিল্লি, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩

helicopter corruption

কপ্টার-দুর্নীতি। ছবি- ফাইল চিএ।

ভেবেছিলেন কম্পিউটার থেকে সব তথ্য মুছে ফেলেছেন। কিন্তু তেমনটা যে হয়নি, যখন টের পেলেন, দেরি হয়ে গিয়েছে। পুলিশের হাতে 'প্যান্ডোরার বাক্স'।

ইনি গুইডো হাশকে, কপ্টার-কাণ্ডে মধ্যস্থতাকারী অন্যতম অভিযুক্ত। ইতালির গোয়েন্দারা জানান, হাশকের কম্পিউটারে 'প্যান্ডোরাস বক্স' নামে একটা ড্রাইভ দেখেই সন্দেহ হয় গোয়েন্দাদের।

ড্রাইভ খুলতেই কপ্টার দুর্নীতিতে ফিনমেকানিকা কার কার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে, ইতালি-লুগানো-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক লেনদেনের তথ্য, এমনকী কোন কোন ভারতীয় মধ্যস্থতাকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করা হয়েছে, বেরিয়ে এল এমনই সব তথ্য। হাশকের মায়ের বাড়ি থেকে আগেই উদ্ধার হয়েছিল, টাকাপয়সা লেনদেন সংক্রান্ত বেশ কিছু কাগজপত্র। তার পরে হাশকের কম্পিউটার হার্ড ড্রাইভের ওই তথ্যগুলো, গোয়েন্দাদের অর্ধেক রহস্য সমাধান করে দিয়েছে।

ইতালির আদালতে কপ্টার-দুর্নীতির শুনানি চলাকালীন একে একে প্রকাশ্যে আসছে এমনই সব তথ্যপ্রমাণ। আর ৩৬০০ কোটি টাকার চুক্তি করতে ফিনমেকানিকা প্রধান গুইসেপে ওরসি যে ৩৬০ কোটি ঘুষ দিয়েছিলেন, ক্রমেই জোরদার হয়ে উঠছে তা। রিপোর্টে বলা হয়েছে, কম্পিউটার থেকে সব তথ্য মুছে দিয়ে হাশকে ভাবেন, তাঁকে ধরার সম্ভাবনা নেই। ইতালির সংবাদপত্র লিখেছে, ওরসি-র ভাগ্য এখন 'হাশকের বাক্সে'। কারণ, ওরসিই কপ্টার লেনদেন চুক্তিতে হাশকে-কে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিয়োগ করেছিলেন। যদিও ফিনমেকানিকা-প্রধান এ কথা অস্বীকার করছেন। গোয়েন্দাদের রিপোর্টে ওঠে আরও একটি নাম ক্রিশ্চিয়ান মিশেল, যাঁর বাবার সঙ্গে ৯০'-এর দশকে কংগ্রেসের ঘনিষ্ঠতা ছিল।

ইতিমধ্যে, ইতালিতে শুরু হওয়া দুর্নীতি-মামলায় ভারতের হয়ে সিবিআই আইনজীবী নিয়োগ করেছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের আশ্বাস, এতে ইতালির থেকে প্রয়োজনীয় নথি পেতে সুবিধা হবে। সিবিআইয়ের একটি বিশেষজ্ঞ দলও আগামী কাল ইতালি রওনা দেবে। আজই কেন্দ্রীয় ভিজিল্যান্স কমিশন ৩৬০০ কোটি কপ্টার-দুর্নীতির রিপোর্ট চেয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের কাছে।

কপ্টার-দুর্নীতি নিয়ে যখন দেশ জুড়ে হইচই পড়ে গিয়েছে, ঠিক সেই সময় দেশে পা রাখছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। মূল সংস্থা ফিনমেকানিকা ইতালির হলেও, অগস্তাওয়েস্টল্যান্ড ব্রিটিশ। যে এক ডজন কপ্টারের চুক্তি হয়েছিল ফিনমেকানিকার সঙ্গে, তার মধ্যে তিনটি কপ্টার হাতে পেয়েছে ভারত। এই তিনটিই তৈরি হয়েছে ব্রিটেনে। তাই এই মুহূর্তে ক্যামেরনের দেশে আসা যথেষ্টই উল্লেখযোগ্য। ভারত ইতিমধ্যেই তদন্তে সাহায্য চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে ব্রিটিশ সরকারকে। প্রাথমিক ভাবে ব্রিটেনের জবাবে কেন্দ্র সন্তুষ্ট না হলেও, ক্যামেরনের ভারত সফরকে গুরুত্ব দিচ্ছে বিদেশ মন্ত্রক।
ভারত যখন ক্যামেরনের থেকে তথ্য পাওয়ার আশায়, তখন ভারতে এসে একটা বড়সড় অর্থের চুক্তি বাগাতে চাইছেন ক্যামেরন। শোনা যাচ্ছে, ক্যামেরন চাইছেন ভারতকে অন্তত ১০০টি ইউরোফাইটার জেট বেচতে। গত বছর ফরাসি যুদ্ধবিমান সংস্থা ১০০০ কোটি ডলারের চুক্তি করেছিল ভারতের সঙ্গে। এ বারে ভারত থেকে সদ্য খালি হাতে ফিরে গিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট। কোনও মতেই এই সুযোগ হারাতে চান না ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।

আনন্দবাজার পত্রিকা


বাতিল হচ্ছে কপ্টার-চুক্তি

বফর্সের গন্ধ পাচ্ছে বিজেপি

নিজস্ব প্রতিবেদন 
কলকাতা, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৩

Ravi Shankar Prasad

গাঁধী পরিবারকেই নিশানা করতে চেয়েছেন তিনি। ছবি- নিজস্ব চিত্র।

কপ্টার-দুর্নীতির সঙ্গে বফর্স-কাণ্ডের মিল খুজে পাচ্ছে বিজেপি। ভিভিআইপিদের জন্য কপ্টার কেনার ক্ষেত্রে ইতালীয় সংস্থা ফিনমেকানিকার বিরুদ্ধে ভারতে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আজ নাম না করলেও এই অভিযোগের তদন্তের সময়ে একটি 'বিশেষ পরিবারের' ভূমিকা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন বিজেপি মুখপাত্র প্রকাশ জাভড়েকর। রাজনীতির কারবারিদের মতে, গাঁধী পরিবারকেই নিশানা করতে চেয়েছেন তিনি।

ফিনমেকানিকার নিয়ন্ত্রণাধীন সংস্থা অগুস্তা-ওয়েস্টল্যান্ডের কাছ থেকে ভিভিআইপিদের জন্য ১২টি কপ্টার কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ভারত। সম্প্রতি ফিনমেকানিকার প্রধান জিউসেপ্পে ওরসিকে মিলানে গ্রেফতার করা হয়। আজ নিজের পদ থেকে ইস্তফাও দেন তিনি। কপ্টার বিক্রির সময়ে অগুস্তা-ওয়েস্টল্যান্ড ভারতে প্রায় ৩৬২ কোটি টাকা ঘুষ দিয়েছে বলে অভিযোগ ইতালি সরকারের। এই অভিযোগের পরে ভারতীয় রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

প্রাক্তন বায়ুসেনা প্রধান এস পি ত্যাগী ও তাঁর তিন আত্মীয়ের বিরুদ্ধে কপ্টার-দুর্নীতিতে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠলেও তা অস্বীকার করেছেন তিনি। প্রতিরক্ষামন্ত্রী থাকাকালীন প্রণব মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তাঁর আমলেই এই কপ্টার কেনা নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছিল বলে খোদ প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের নথিতেই প্রকাশ।

ইতিমধ্যেই অগুস্তা-ওয়েস্টল্যান্ডের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে ভারত। ঘুষের অভিযোগ নিয়ে সাত দিনের মধ্যে নিজেদের বক্তব্য জানাতে অগুস্তা-ওয়েস্টল্যান্ডকে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। জিউসেপ্পে-মামলা নিয়েও ফের ইতালির কাছে তথ্য চেয়েছে বিদেশ মন্ত্রক। মন্ত্রকের মুখপাত্র জানিয়েছেন, তাঁরা এই বিষয়ে আগেও তথ্য চেয়েছেন। কিন্তু বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন থাকায় ইতালি কোনও তথ্য দেয়নি। কপ্টার-কাণ্ডের তদন্তের ভার নিয়েছে সিবিআই।

তবে এই পদক্ষেপে মোটেই খুশি নয় বিজেপি। আজ দলীয় মুখপাত্র প্রকাশ জাভড়েকর জানিয়েছেন, ইতালির আদালতে যে চার্জশিট দায়ের হয়েছে, তাতে 'এক পরিবার'কে দুশো কোটি টাকা ঘুষ দেওয়ার কথা রয়েছে। বিজেপির বক্তব্য, নিশ্চয়ই প্রাক্তন বায়ুসেনা প্রধানের পরিবারকে এত ঘুষ দেওয়া হয়নি! আরও এক পা এগিয়ে রাহুল গাঁধীর সহযোগী কনিষ্ক সিংহের সঙ্গে ইতালির দালালের যোগসূত্রের অভিযোগ তুলে তাঁর ভূমিকাও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন আর এক বিজেপি নেতা কিরিট সোমাইয়া।

বিজেপির দাবি, বফর্সের ঘটনায় ইতালীয় ব্যবসায়ী অত্তাভিও কুত্রোচ্চিকে দেশ থেকে পালাতে কংগ্রেস সাহায্য করেছিল। এই দুর্নীতিতেও ফিনমেকানিকার ভারতীয় প্রধান গিরাসোলেকে ভারত ছেড়ে চলে যেতে সাহায্য করা হয়েছে। ফলে, দু'টি ঘটনার মধ্যে মিল স্পষ্ট। সিবিআই তদন্তে আস্থা নেই বিজেপির। সুপ্রিম কোর্ট বা সংসদীয় কমিটির নজরদারিতে বিশেষ দল গঠনের দাবি জানিয়েছে তারা। সংসদীয় মন্ত্রী কমল নাথ জানান, সংসদীয় কমিটির তদন্তে তাঁদের আপত্তি নেই।

আনন্দবাজার পত্রিকা


এদিকে আবার হায়দরাবাদে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের জেরে দেশের সব বড় শহরের সঙ্গে কলকাতার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। রাতে শহরের রাস্তায় রাস্তায় চলছে বিশেষ নজরদারি। 
নতুন পুলিস কমিশনার সুরজিত্‍ পুরকায়স্থ শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখছেন। শহরের বিভিন্নপ্রান্তে কড়া নিরাপত্তা নজরে পড়ছে। শিয়ালদহ, হাওড়া স্টেশনেও নিরাপত্তা দ্বিগুন করা হয়েছে। 


জি নিউজের খবর অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জোড়া বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল হায়দরাবাদ। অন্ধ্রপ্রদেশের রাজধানী শহরের দিলসুখ নগর এলাকার বাসস্ট্যান্ডে দুদুটি বিস্ফোরণ হয়েছে। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। অন্ততপক্ষে ২০ জনের মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে রাত আটটা পর্যন্ত। জখম হয়েছে বহু। তাদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

সেই বিস্ফোরণের টাটকা খবর এক নজরে টাইমলাইনে--


কলকাতায় কড়া নজরদারি চলছে। শহরের রাস্তায় রাস্তায় গাড়ি পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। শিয়ালদহ, হাওড়া স্টেশনে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা।

ঘটনার কড়া নিন্দা করলেন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়

রাত ১০.৩০টা-- কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীল শিন্ডে এবার অনেকটা সংযত মন্তব্য করলেন। ধরা পড়ল কেন্দ্র-রাজ্য সম্বন্বয়ের অভাব। 
রাত ১০.২০টা-- সাংবাদিকদের মুখোমুখি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীল কুমার শিন্ডে।
রাত ১০.১০টা-- মোবাইল নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে গেছে গোটা হায়দরাবাদে। 

রাত ১০টা-- সন্ত্রাসাবাদী ঘটনার কথা স্বীকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের। জানানো হল আগেই অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারকে সতর্ক করা হয়েছিল।

রাত ৯.৪৫টা-- এনএসজি দল হায়দরাদবাদে পৌঁছে গেল

রাত ৯.৩০টা-- বিস্ফোরণের দাগ বাইশ গজে-- নিরপত্তার অজুহাতে হায়দরাবাদে টেস্ট খেলতে রাজি নয় অস্ট্রেলিয়া। অনিশ্চিত হায়দরাবাদ টেস্ট। দশ দিন পর ভারত-অস্ট্রেলিয়া টেস্ট হওয়ার কথা।

রাত ৯.১৫টা-- প্রশাসনের তরফ থেকে দেওয়া হল বিশেষ হেল্পলাইন নম্বর---
নম্বরটি হল-- ০৪০-২৭৮৫৪৭৭১ (040-27854771)/ ৯৩৯১৩৫১৫৪৩

মোটরসাইকেলে রাখা ছিল বিস্ফোরক। এমনটাই প্রাথমিক তদন্তে অনুমান


রাত ৯টা-- প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা, বিস্ফোরণে আহতদের ৫০ হাজার, মৃতদের ২ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। সঙ্গে বিবৃতি দিয়ে মনমোহন সিং জানালেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত দোষিরা সবাই শাস্তি পাবে।

রাত ৮.৩০টা-- হায়দরাবাদের উদ্দেশ্যে উড়ে গেল এনএসজি দল


নির্দিষ্ট কোনও তথ্য না থাকলেও জঙ্গি হামলা হতে পারে বলে খবর ছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কাছে। অন্যান্য রাজ্যের মতো অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারকেও সে কথা জানানো হয়েছিল। হায়দরাবাদে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের পর এ কথা জানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীলকুমার শিণ্ডে।  

বিস্ফোরণের কড়া নিন্দা করলেন কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী মণীশ তিওয়ারি।

রাত ৮.১৫টা-- ঘটনাস্থলে পৌঁছলেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী কিরণ রেড্ডি

রাত ৮.২৬টা-- দিলসুখনগর বাসস্ট্যান্ড, কোনার্ক থিয়েটার ও ভেঙ্কট আপটে থিয়েটারের সামনে বিস্ফোরণ তিনটি হয় বলে জানানো হল



রাত ৮.১৬টা-- মৃতের সংখ্যা ১৮ গিয়ে দাঁড়াল

রাত ৮.১৪টা-- দেশের সব বড় শহরে কড়া সতর্কতা জারি করা হল



রাত ৮.০০টা-- বিস্ফোরণের ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে জরুরী বৈঠক 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সূত্রের খবর গোটা ঘটনায় সন্দেহের তির ইন্ডিয়ান মুজাহিদিনের দিকে।


আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে উদ্ধারকারী দল।

সন্ধ্যা ৭.৪৫টা-- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সূত্রে জানানো হল, দিলসুখনগরের এক 
বাসস্ট্যান্ডে জোড়া বিস্ফোরণ ঘটেছে। তাতে সাত জনের মৃত্যু হয়েছে।


সন্ধ্যা ৭.৩০টা-- ঘটনাস্থলে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি। সাধারণ মানুষ নেমে পড়ল উদ্ধারকার্যে। 

প্রথম বিস্ফোরণের পাঁচমিনিট পর দ্বিতীয় ও ১৫ মিনিট পর তৃতীয় বিস্ফোরণটি হল। 

সন্ধ্যা ৭.০১টা-- হায়দরাবাদে দিলসুখনগর কেঁপে উঠল প্রচণ্ড বিস্ফোরণে


http://zeenews.india.com/bengali/nation/serial-bomb-blasts-in-hyderabad-live-blog_11582.html

২০ এবং ২১ তারিখের দেশ জুড়ে যে বন‌্‌ধ হল তা শুধুই শুরু। এর পর আরও বড় আন্দোলনে নামার হুমকি দিল অল ইন্ডিয়া ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে একটি সাংবাদিক বৈঠকে অল ইন্ডিয়া ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক গুরুদাস দাশগুপ্ত এদিন বলেন যে দেশ জুড়ে দু'দিন ব্যাপী এই আন্দোলন সফল হয়েছে। তবে আগামী দিনে আরও বড় আন্দোলনে নামতে চলেছেন তাঁরা। 'গতকাল যে সব কারখানা এবং মানুষ এই আন্দোলনে যোগদান করেননি তাঁরা সবাই আজ স্বতস্ফূর্তভাবে এগিয়ে এসেছেন এই আন্দোলনে সামিল হতে।' 

তাঁর সঙ্গে এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আইএনটিইউসি, হিন্দ মজদুর সভা এবং সেন্টার অফ ইন্ডিয়ান ট্রেড ইউনিয়নের অন্যান্য শীর্ষ স্থানীয় নেতা। গুরুদাস দাশগুপ্ত এদিন বলেন যে গ্রিস, সাইপ্রাস, ইতালি, জাপান এবং অন্যান্য বহু দেশের আন্তর্জাতিক ট্রেড ইউনিয়নগুলি তাঁদের এই আন্দোলনকে সমর্থন করেছেন। 

এই বন‌্ধ‌-এর জন্যে সারা দেশে যে অর্থ ক্ষতি হয়েছে, সে ব্যাপারে জানতে চাইলে গুরুদাসবাবু বলেন যে এর জন্যে সরকার দায়ী। সরকার তাঁদের দাবী মেনে নিলে ২৬ হাজার কোটি টাকার এই বিপুল ক্ষতি হত না।


ধর্মঘট ঘিরে আচমকা হিংসার ঘটনা ঘটল নয়ডায়। ধর্মঘটের দিন কারখানা খোলা রাখার প্রতিবাদে নয়ডা ফেজ টুতে বিক্ষোভ শুরু হয়। খোলা কারখানা লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টির সঙ্গে চলে অবাধে ভাঙচুর। বিক্ষোভকারীরা পরপর কয়েকটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। দমকলের একটি গাড়িতেও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। উত্তেজিত বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠি চালায় পুলিস। হিংসায় কয়েকজন পুলিসকর্মীসহ অনেকে আহত হয়েছেন। এই হিংসার তীব্র সমালোচনা করেছেন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।

ট্রেড ইউনিয়নগুলির ডাকা দুদিনের সাধারণ ধর্মঘটের প্রথম দিন সকালবেলায় খুন হলেন শ্রমিক নেতা। আজ আম্বালা বাস স্ট্যান্ডে বনধের সমর্থনে জমায়েত হয় স্থানীয় এআইটিইউসির সমর্থকরা। অভিযোগ, মালিকপক্ষ জোর করে বাস বের করার চেষ্টা করে। এর মধ্যেই এআইটিইউসির ট্রেজারার নরেন্দ্র সিং-এর উপর দিয়ে বাস চালিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে খবর।

সংগঠনের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক গুরুদাস দাশগুপ্ত এই ঘটনার নিন্দা করে জানান, ঘৃণ্য এই ঘটনা সত্ত্বেও শ্রমিকরা ধর্মঘট চালিয়ে যাবেন। তিনি আরও বলেন, "আমাদের ধর্মঘট ভাঙার জন্য সরকার পক্ষ এবং মালিক পক্ষ এক জোট হয়ে ধর্মঘট বানচালের চেষ্টা চালাচ্ছে। সারা দেশের শ্রমিকরা ধর্মঘটকে সফল করে শহীদ নরেন্দ্র সিং-এর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন।"

এগারোটি কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠনের ডাকা দুদিনের ধর্মঘটের প্রথম দিনে দেশজুড়ে প্রভাব পড়েছে।  দিল্লিতে অটো-ট্যাক্সি চলাচল করছে না। এআইটিইউসি নেতা গুরুদাস দাশগুপ্তর নেতৃত্বে আজ সংসদ মার্গ থেকে যন্তর-মন্তর পর্যন্ত মিছিল করেন ধর্মঘটীরা।  

মুম্বইয়েও ধর্মঘটী শ্রমিক সংগঠনগুলি পথে নেমেছে। জনজীবন ব্যাহত না হলেও দেশের বাণিজ্যিক রাজধানীর আর্থিক পরিষেবা ক্ষেত্রে ধর্মঘটের প্রভাব পড়েছে। লোকাল ট্রেন ও যানবাহন চলাচল করলেও যাত্রীর সংখ্যা কম। 

ধর্মঘটে স্তব্ধ ত্রিপুরার জনজীবন। স্কুল-কলেজ-অফিস সবই বন্ধ। আগরতলা থেকে বিমান চলাচল করলেও বন্ধ রয়েছে বাস ও ট্রেন চলাচল। ধর্মঘটে ব্যাহত কেরালার জনজীবন। তিরুবনন্তপুরম, কোচি সহ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় যানবাহন চলাচল করছে না। বন্ধ রয়েছে দোকানপাট। খোলেনি অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। 

যানবাহনের অভাবে ভুবনেশ্বরে রাস্তায় বেরিয়ে সমস্যায় পড়েছেন নিত্যযাত্রীরা। ধর্মঘটের সমর্থনে চলছে মিছিল। চণ্ডীগড়, ভোপাল, পাটনা, হায়দরাবাদ, আমেদাবাদ, কানপুর সর্বত্রই ধর্মঘটের সমর্থনে রাস্তায় নেমেছেন শ্রমিক সংগঠনগুলির প্রতিনিধিরা। কর্নাটক, ঝাড়খণ্ডে ধর্মঘটের মিশ্র প্রভাব পড়েছে। কর্নাটকের বল্লারিতে বাসে পাথর ছোঁড়ার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়ায়। কর্মীরা ধর্মঘটে অংশ নেওয়ায় দেশের সর্বত্র ব্যাহত হচ্ছে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা। 


এলটিটি প্রধান প্রভাকরণের ছেলের নৃশংস হত্যাকাণ্ডকে `অমানবিক` বলে মন্তব্য করলেন তালিমনাড়ু মুখ্যমন্ত্রী তথা এআইডিএমকে সুপ্রিমো জে জয়ললিতা। এই ঘটনায় কেন্দ্রের হস্তক্ষেপেরও দাবি করেছেন তিনি। বুধবার জয়ললিতা বলেন, "এটা অমানবিক ঘটনা। শুধুমাত্র প্রভাকরণের ছেলে হওয়ায় ছোট্ট শিশুটিকে ঠাণ্ডা মাথায় খুন করা হয়েছে।" এই ধরনের অপরাধকে ক্ষমা করা উচিৎ নয় বলে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। "এই ঘটনা জার্মানিতে হিটলারের বর্বরতার কথা মনে করিয়ে দেয়", বলেন জয়ললিতা।

ভারত অন্যান্য দেশের সঙ্গে কথা বলে ইউএন-এর যুদ্ধ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক। এমনটাই দাবি জয়ললিতার। শ্রীলঙ্কায় অর্থনৈতিক এমবার্গো জারি করা উচিৎ বলে জানিয়েছেন তিনি। মানবাধিকার লঙ্ঘন হওয়ায় শ্রীলঙ্কাকে জবাবদিহি করতে হবে। যুক্তি জয়ললিতার। এই অপরাধের অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের দাবি জানিয়েছেন এআইডিএমকে প্রধান।


১৯১৯-এর সেই কালো দিনটায় যাঁরা প্রাণ হারিয়েছিলেন, তাঁদের পরিবারের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল ব্রিটেনের তরফে জালিয়ানওয়ালাবাগ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করা হোক। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীদের মধ্যে তিনিই প্রথম। ডেভিড ক্যামেরন। ভারত সফরে এসে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সবচেয়ে রক্তাক্ত অধ্যায়ের আঁচে পেতে পঞ্চাবের সেই বাগানে ঘুরে গেলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। 

ক্যামেরন জালিয়ানওয়ালাবাগের ভিসিটর বুকে লিখিত বয়ানে স্বীকার করে নিয়েছেন, ব্রিটিশ ইতিহাসে ঘটে যাওয়া জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকণ্ড লজ্জাজনক ঘটনা। তিনি লিখেছেন ,"উইনস্টন চার্চিল যথার্থ বলেছেন, সে সময় কী দানবীয় ঘটনা ঘটেছিল এখানে।" তিনি আরও বলেন, "কী ঘটেছিল তা কখনই ভুলে যাওয়া উচিৎ নয়।" সেইসঙ্গেই যুক্তরাজ্য যে সবসময় শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের সমর্থন করে সে কথাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন ক্যামেরুন। 

১৯১৯-এ জেনারেল ডায়ারের এক নির্দেশে ব্রিটিশ পুলিস সে দিন হাজার মানুষের প্রাণ ঝাঁঝরা করে দেয়। জালিয়ানওয়ালাবাগ পরিদর্শন করলেও নৃশংস সেই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশের ধার ধারেননি ক্যামেরুন। এ দিন সকালে স্বর্ণমন্দিরেও যান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। আজ সকালে অমৃতসরে পৌঁছনোর পর ক্যামেরনকে অভ্যর্থনা জানাতে উপস্থিত ছিলেন পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ সিং বাদল। জালিয়ানওয়ালাবাগে বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটান ক্যামেরন। কিন্তু ঐতিহাসিক সেই স্থান ছাড়ার আগে ক্যামেরনের চোখেমুখে ছিল অদ্ভুত স্তব্ধতা। 


No comments:

Post a Comment

Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...